আন্দোলনে পুলিশের ভ্যান থামিয়ে ভাইরাল হওয়া কে এই মডেল?

আন্দোলনে পুলিশের ভ্যান থামিয়ে ভাইরাল হওয়া কে এই মডেল?

মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে পুলিশের একটি ভ্যানের সামনে এক তরুণীর দাঁড়িয়ে থাকার ছবি রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মুহূর্তেই শুরু হয় আলোচনা—কে এই তরুণী? পরে জানা যায়, তিনি ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপক ও উদ্যোক্তা রিয়া আহির। ভারতের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে তিনি পুলিশের পথরোধ করেছিলেন।

সেদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবাজী পার্ক এলাকায় পৌঁছে রিয়া দেখতে পান, কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে একটি পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের আটকের পেছনে কোনো বৈধ নির্দেশ ছিল না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, আটকের লিখিত নির্দেশ কোথায়। সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি আর অপেক্ষা না করে ভ্যানটির সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

রিয়ার ভাষ্য, ভ্যানে থাকা এক নারী আন্দোলনকারীর হাত ধরে পাশে হাঁটছিলেন তিনি। পরে মনে হয়, শুধু পাশে হাঁটলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। তখনই কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তিনি সরাসরি গাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক।

রিয়ার এই অবস্থানের পর ঘটনাস্থলে থাকা আরও অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে প্রতিবাদের পরিবেশ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আর পুলিশের ভ্যান আটকে দেওয়ার সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সবাইকে একটি করে চারা রোপণের আহ্বান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীরসবাইকে একটি করে চারা রোপণের আহ্বান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
ঘটনার পর রাতভর ঘুমাতে পারেননি বলে জানান রিয়া। ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তিনি জেগে ছিলেন। একদিনের মধ্যেই দেশজুড়ে পরিচিতি পেলেও নিজেকে আন্দোলনের মুখ বা নেতা হিসেবে দেখতে চান না তিনি। তাঁর মতে, তিনি শুধু একজন নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।

পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তিনি সরাসরি গাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক
পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তিনি সরাসরি গাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক
রিয়া জানান, তিনি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিবারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। দেশের তরুণদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা নিয়ে তাঁর বাবাও উদ্বিগ্ন।

কেন তিনি প্রতিবাদে নেমেছিলেন—এ প্রশ্নের জবাবে রিয়া বলেন, তিনি শুধু নিজের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছেন। দিল্লি, মুম্বাই বা অন্য যেখানেই আন্দোলন হোক না কেন, দেশের তরুণদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, অন্যায় দেখেও নীরব থাকা উচিত নয়।

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে নিজের তুলনা করা নিয়েও আপত্তি রয়েছে রিয়ার। তিনি বলেন, যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রশ্নই ওঠে না। তবে সেদিন তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত ছিলেন না এবং প্রতিবাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

রিয়া আহির বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। অভিনয়, মডেলিং ও উপস্থাপনার পাশাপাশি সমসাময়িক নানা সামাজিক ইস্যুতেও তিনি নিয়মিত সরব। যদিও সবাই তাঁকে রিয়া আহির নামে চেনেন, তাঁর পারিবারিক নাম রিয়া যাদব। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *