বয়স ৪০ পেরিয়েছে অথচ একজনের উচ্চতা মাত্র তিন ফুট, অন্যজনের আড়াই ফুট। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই দুই বোনের জীবন কেটেছে দারিদ্র্যতা আর প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে লড়াই করে। বয়স বাড়লেও বদলায়নি তাদের ভাগ্য। আজও মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসিন্দা আছিয়া ও মরিয়ম।
কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া পাড়ার জরাজীর্ণ এই টিনের ঘরেই বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস দুই বোনের। বৃষ্টি হলেই টিনের চাল চুঁইয়ে পানি পড়ে, ভিজে যায় বিছানা। নেই ব্যবহারযোগ্য একটি টয়লেটও। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও কষ্ট হয় তাদের। দারিদ্র্য আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিয়ে হয়নি দুই বোনের। চার দশকের বেশি সময় ধরে সংগ্রাম করেও মেলেনি মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ একটি ঘর।
দুই বোনের কষ্ট দেখে ব্যথিত স্থানীয়রাও। তাদের দাবি, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত একটি ঘর ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হোক, যাতে জীবনের বাকি সময়টুকু অন্তত নিরাপদে কাটাতে পারেন আছিয়া-মরিয়ম।
তবে, উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুই বোনের প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমলেই তাদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
চার দশকের অপেক্ষা, সীমাহীন কষ্ট আর অগণিত নির্ঘুম রাত পার করেও আজও একটি নিরাপদ ঘরের অপেক্ষায় দুই বোন। অথচ, সমাজ আর রাষ্ট্রের সামান্য সহায়তাই বদলে দিতে পারে আছিয়া ও মরিয়মের বাকি জীবনের গল্প।

