উমামা ফাতেমাকে নিয়ে তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট

উমামা ফাতেমাকে নিয়ে তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ উমামা ফাতেমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

তাসনিম জারা পোস্টে লেখেন, অভ্যুত্থানের পরপর উমামা ফাতেমা, নুসরাত আর রাফিয়ার একটা ইন্টারভিউ দেখেছিলাম। ওরা বলছিল- আন্দোলনের দিনগুলোতে কী করেছে, কেন করেছে, কেমন দেশ চায়। এত সাহসী, এত খোলামেলা, আর এত অল্প বয়সে এতো পরিণত কথা আমি বেশি দেখিনি। আমার রাজনীতিতে আসার পেছনে যে কয়েকটা ধাক্কা কাজ করেছে, ওই ইন্টারভিউটা তার একটা।

দেশে ফেরার পর উমামার সঙ্গে যেদিন প্রথম দেখা হলো, আমি রীতিমতো স্টারস্ট্রাক হয়ে ছিলাম বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, উমামা সামনাসামনি আরও সহজ। কোনো পারফরম্যান্স নেই। যা বিশ্বাস করে তা-ই বলে, যা বলে তা-ই করে।

তাসনিম জারা বলেন, আমাদের মতো নতুন রাজনীতিতে আসা মানুষদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটা হলো নিজের কম্পাস ঠিক রাখা। প্রতিদিন এত সিদ্ধান্ত, এত চাপ, এত ধোঁয়াশা; সব প্রশ্নের উত্তর গোড়া থেকে ভেবে বের করা সম্ভব না। তাই কয়েকজন মানুষ লাগে, প্রয়োজনে যাদের বিবেচনার ওপর ভরসা করা যায়। উমামাকে দেখে মনে হতো, ও আমার সেই মানুষদের একজন হতে পারে। তারপর অনেকটা সময় গেছে। অনেককে বদলে যেতে দেখেছি। অনেকের কাছ থেকে হতাশ হয়েছি। উমামা রয়ে গেছে।

গত দুই বছরে উমামা বারবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, যে প্ল্যাটফর্মকে আর নিজের (উমামা) কথার সঙ্গে মেলাতে পারেনি, সেখান থেকে নিজেই বেরিয়ে এসেছে। দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে ‘না’ বলেছে। ডাকসুতে কোনো দলের ছাতা ছাড়া স্বতন্ত্র প্যানেল নিয়ে দাঁড়িয়েছে। হেরেছে, কিন্তু নিজের শর্তে। উমামার কাছে ক্ষমতার রাস্তাটা খোলা ছিল, চাইলেই সে যেতে পারত। সে যায়নি, কারণ সে হাতের নাগালের ক্ষমতাকে ‘না’ বলেছে।

এনপসিপির সাবেক এ নেত্রী বলেন, আমাদের রাজনীতিতে ক্ষমতার দিকে হাঁটা খুব সাধারণ ঘটনা; নিজের কথার সঙ্গে মিল রাখতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া বিরল।

জারা বলেন, ইদানিং অনেকে পজিশনের সঙ্গে পারপাসকে গুলিয়ে ফেলেন। এবং সেই হিসাবে উমামাকে ব্যর্থ বলেন, কারণ সে এমপি হতে পারেননি। এমপি হওয়াটাই যেন সফলতা; মানুষের জীবনে কিছু বদলাতে পারলেন কিনা, সে প্রশ্নটা অপ্রাসঙ্গিক। এই হিসাব মানলে স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের প্রতিটা এমপিই সফল। কারণ, তারা তো এমপি হয়েছিলেন।

জারা আরও বলেন, আসল হিসাব হয় দুইটা প্রশ্নে: পজিশনটা পেলেন কীভাবে, আর পেয়ে করলেন কী। যেকোনো মূল্যে আসন চাই, এ তো পুরোনো বন্দোবস্তেরই নিয়ম। ওই নিয়মে খেললে নতুন বন্দোবস্ত থাকে কোথায়? বদলায় শুধু মুখ। উমামা ওই দলে নেই। সেজন্যই ওর মধ্যে নতুন কিছুর আশা এখনো বেঁচে আছে।

কেউ কেউ উমামাকে মঞ্চে কথা বলতে দেখলে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন উল্লেখ করে জারা বলেন, আর ওকে মঞ্চে কথা বলতে দেখলে আমার মেরুদণ্ডটা একটু সোজা হয়ে যায়।

তাসনিম জারা বলেন, ছোটবেলায় শুনেছিলাম, চীনের দুঃখ হোয়াংহো। উমামাকে অনেকে হোয়াংহো নদীর সঙ্গে তুলনা করে ব্যর্থদের কাতারে ফেলতে চায়। কিন্তু বড় হয়ে জেনেছি, ওই হোয়াংহোর পলিমাটিতেই চীনা সভ্যতার জন্ম। যে নদীকে লোকে দুঃখ বলে, সে নদীই আসলে জন্ম দেয়।

পোস্টের শেষে জারা বলেন, নতুন বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে যাদের চেহারা ভরসার প্রতীক হয়ে আমার মানসপটে ভেসে ওঠে, তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন উমামা ফাতেমা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *