অর্থ নয়, মানবতার টানে; ৫০ বছরে খুঁড়েছেন ১ হাজার কবর

অর্থ নয়, মানবতার টানে; ৫০ বছরে খুঁড়েছেন ১ হাজার কবর

মানুষের অসীম সময়ের ঠিকানা কবর। এই কবর খননের কারিগর আবুল হোসেন খান বিনামূল্যে সখীপুরের প্রায় এক হাজার মানুষের কবর খনন করেছেন। এর বিনিময়ে জীবনে কারও কাছ থেকে কখনও নেননি কোনো অর্থকড়ি।

তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। রাজমিস্ত্রি পেশার পাশাপাশি টাকা-পয়সা ছাড়াই আত্মীয়-স্বজন ও নিজ গ্রামের মানুষের মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পেলেই ছুটে যান কবর খুঁড়তে।

আবুল হোসেন খান কবর খোঁড়া শুরু করেন ছোটবেলা থেকেই। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৭৩ সালে তার দাদা মোসলেম উদ্দিন খানের খবর খনন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সাল থেকে রাজমিস্ত্রি পেশায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। আত্মীয়-স্বজনসহ মাইকে কিংবা লোকমুখে সমাজের যেকোনো মানুষ মারা যাওয়ার খবরটি শুনলেই ছুটে যান।

আবুল হোসেন খানের (৭৮) গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের হাতীবান্ধা গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায়। তিনি প্রায় চার যুগেরও বেশি সময় ধরে মৃত মানুষের জন্য কবর খননের কাজ করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলামীন বললেন, খন্দক আবুল হেসেন চাচা সহজ-সরল মানুষ। সব সময় হাসিখুশি থাকেন। খন্দক হিসেবে কবর খনন করাটা তার মহৎ গুণ। মহৎ গুণটিই যেন তাকে অসাধারণ মানুষ হিসেবে তৈরি করেছে গ্রামের মানুষের কাছে।

খন্দক আবুল হোসেন খান বললেন, ছোটবেলা থাইকা আমি মৃত মানুষের কবর খনন কইরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এটি একটি মানবিক কাজ। একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য ভালো কিছু কাজ করতে পারলে আমি মনে বড়ই শান্তি পাই।

তিনি জানালেন, রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ কইরা আয় রোজগার দিয়া সংসার চালাই। আমার একমাত্র ছেলে প্রবাস জীবন কাটাইতেছে সিঙ্গাপুরে। পাশাপাশি খন্দক হিসেবে গ্রামের মানুষ মইরা গেলে কবর খনন কইরা দিয়া আসি। আমি মন থাইকা, মানবিকতা থাইকা মানুষের জন্য সারাজীবন খন্দক হিসেবে কবর খননের কাজ করতাছি। যতদিন বাঁইচা থাকমু ততদিন মানুষের মঙ্গলের জন্য মানবিক কাজ কইরাই বাঁচতে চাই।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন খান গুর্খা বললেন, কবর খনন করা খন্দকের মহত্বের কাজ। সকলই এ কাজ করতে পারে না। যারা মানবিক মানুষ হয় এবং মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে তারাই পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আয়নাল হক বললেন, বহুদিন ধরে দেখছি আবুল ভাই খন্দক হিসেবে কাজ করছেন। টাকা-পয়সা ছাড়া খন্দক হিসেবে কবর খনন করার বিষয়টি মানবিক ও প্রশংসনীয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *