অনার্সের রেজাল্ট দেখে যেতে পারলেন না সুমাইয়া, পাড়ি জমালেন পরপারে

অনার্সের রেজাল্ট দেখে যেতে পারলেন না সুমাইয়া, পাড়ি জমালেন পরপারে

সামনের সপ্তাহে অনার্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে, যেখানে ৩.৫০-এর বেশি সিজিপিএ (CGPA) নিয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই খুশির খবর আর দেখে যাওয়া হলো না মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার সোহা’র। নিয়তির নির্মম পরিহাসে, সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে চিরতরে চোখ বুজলেন এই হাস্যাজ্জ্বল তরুণী।

শুক্রবার দুপুর ২:৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সুমাইয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (১০ম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া ।

সুমাইয়া শুধু পড়াশোনাতেই নয়, ক্লাসের অন্যান্য কার্যক্রমেও ছিলেন অনন্য। তার প্রজেক্ট সুপারভাইজার ও পরিসংখ‍্যান ও তথ‍্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আহসানুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, সুমাইয়া তার প্রজেক্টের স্টুডেন্ট ছিলেন এবং ব্যাচের প্রেজেন্টেশনগুলোতে সবসময় সেরা পারফর্মার হতেন।

শিক্ষাজীবনে দারুণ সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন সুমাইয়া। সংসার ও ক্যারিয়ার নিয়ে যখন এক বুক স্বপ্ন ডানা মেলছিল, ঠিক তখনই মাত্র ২৪ বছর বয়সে সব ফেলে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।সুমাইয়ার অকাল প্রয়াণে তার সহপাঠী,

শিক্ষক এবং পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহপাঠীরা জানান, ইহজগতে সুমাইয়া অত্যন্ত হাস্যাজ্জ্বল, মিশুক এবং বন্ধুসুলভ একজন মানুষ ছিলেন। তার এই আকস্মিক চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

পরিবারের পক্ষ থেকে এবং তার সহপাঠীরা সুমাইয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সাথে, জীবনে চলার পথে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা মার্জনা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

শনিবার সকালে সুমাইয়ার নিজ গ্রাম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *