ইয়ামালের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার গুঞ্জন, নীরবতা ভাঙলেন প্রেমিকা ইনেস

ইয়ামালের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার গুঞ্জন, নীরবতা ভাঙলেন প্রেমিকা ইনেস

স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বার্সেলোনা তারকা লামিনে ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া। শেষ পর্যন্ত ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি দীর্ঘ আবেগঘন বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন স্প্যানিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

বিশ্বকাপ জয়ের পর মাদ্রিদে স্পেন দলের আনুষ্ঠানিক উদযাপনের সময় ধারণ করা কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ইয়ামাল যেন ইনেসকে এড়িয়ে যাচ্ছেন কিংবা তার প্রতি তেমন মনোযোগ দিচ্ছেন না। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জোর গুঞ্জন। অনেক ব্যবহারকারী ইনেসকে লক্ষ্য করে কটূক্তি, বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ও অপমানজনক বার্তা ছড়িয়ে দেন।

প্রায় তিন মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কের কথা প্রকাশ করলেও ইনেস জানিয়েছেন, ইয়ামালের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এরও অনেক আগে থেকে। অনলাইনে চলতে থাকা ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতেই তিনি প্রকাশ করেন দীর্ঘ বার্তা।

বিবৃতির শুরুতেই ইনেস লেখেন, ‘এত সাধারণ একটি বিষয় শেয়ার করা যে এত বড় বিতর্কে রূপ নেবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মন্তব্যগুলো পড়ছি। নিজেকে শক্ত দেখানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমিও একজন মানুষ। এই অ্যাকাউন্টের পেছনে এমন একজন মানুষ আছে, যে অনুভব করে, কাঁদে, ভুল করে। শুধু কারও সঙ্গে সম্পর্কে আছি বলেই আমি মানুষ থাকা বন্ধ করিনি।’

সমালোচনা ও বিদ্বেষের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট করেছেন ইনেস। তাঁর ভাষায়, ‘গঠনমূলক সমালোচনা আমি বুঝি। কিন্তু মতামত প্রকাশ আর কাউকে অপমান করা, হেয় করা বা অমঙ্গল কামনা করার মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি ইয়ামালের কোনো ক্ষতি করছেন না, ‘আমি কারও কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিইনি। আমি শুধু নিজের জীবনটা বাঁচছি।’

মানুষকে আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনেস লেখেন, ‘কোনো মন্তব্য করার আগে মনে রাখবেন, পর্দার ওপাশেও একজন মানুষ আছে। তার পরিবার আছে, বন্ধু আছে, ভয় আছে, অনুভূতি আছে। আপনার একটি মন্তব্য তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা আপনি জানেন না।’

বার্তার শেষ অংশে আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমিও অনুভূতিসম্পন্ন একজন নারী। আমার পরিবারও এসব মন্তব্য পড়ে। অন্য সবার মতো আমারও ভালো ও খারাপ দিন আসে। আমি কাউকে বলছি না যে আমাকে ভালোবাসতেই হবে। শুধু সামান্য সহমর্মিতা আর মানবিকতা চাই। কারণ হাজার হাজার ঘৃণামূলক বার্তা পাওয়ার যোগ্য কেউ নয়।’

জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন
শেষে ইনেস আশা প্রকাশ করেন, একদিন ইন্টারনেট এমন একটি জায়গায় পরিণত হবে, যেখানে নিষ্ঠুরতাকে আর উৎসাহ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তার একমাত্র উদ্দেশ্য নিজের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া, কাউকে আঘাত করা নয়। বার্তার শেষ লাইনে তিনি লেখেন, ‘আমরা সবাই নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। আশা করি, আমরা সবসময় ঘৃণার বদলে সহমর্মিতাকেই বেছে নেব।’

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *