এবারের বিশ্বকাপ থেকে যত টাকা আয় করল ফিফা

এবারের বিশ্বকাপ থেকে যত টাকা আয় করল ফিফা

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন বা ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে ফিফা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংস্থাটির যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এই আয় তা বিপুল ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) ব্রিটিশ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য।

শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফার সদস্য দেশগুলোকে আয়ের এই রেকর্ডের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার প্রাক্কলিত আয়ের লক্ষ্য ছিল ১১ বিলিয়ন বা ১১০০ কোটি ডলার। তবে, টুর্নামেন্ট শেষে তা এক লাফে আরও ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফিফার আয় এতটা বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে হসপিটালিটি প্যাকেজ ও টিকিটের ‘সেকেন্ডারি মার্কেট’ বা কালোবাজারি। চড়া মূল্যের এই টিকিট বাজার থেকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ পকেটে ঢুকিয়েছে ফিফা। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ ও বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ; অর্থাৎ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন কেটে নেয় ফিফা।

আরও পড়ুন

জুলাইয়ে কখনোই বিশ্বকাপ জেতেনি আর্জেন্টিনা
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যাতেও ফিফার অফিশিয়াল পোর্টালে ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখানে কেবল ‘ট্রফি লাউঞ্জ’-এর একেকটি টিকিটের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ৩৪ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪১ লাখ টাকা।

রেকর্ড পরিমাণ এই আয় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য বড় একটি স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপজুড়ে নানা বিতর্কে জড়াতে হয়েছে ফিফাকে। বিশেষ করে, শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড মওকুফ করা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।

ফুটবল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে নতি স্বীকার করেই বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করেছিল ফিফা। যদিও ফিফা দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে। তবে, ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ এখনও কমেনি।

অবশ্য, বিপুল আয়ের পর এই ক্ষোভ হয়তো ধামাচাপা পড়ে যাবে। কারণ বিশ্বকাপ থেকে আয় বাড়ায় ফিফার সদস্য দেশগুলোও এখন বেশি আর্থিক অনুদান পাবে। ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে ইনফান্তিনো ২০০টিরও বেশি সদস্য দেশের সমর্থন পেয়ে গেছেন। বাড়তি তহবিলের লোভ দেখিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ দেশগুলোকেও শেষ পর্যন্ত চুপ করিয়ে রাখতে পারবেন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

এদিকে চলতি বিশ্বকাপের এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুততম সময়ে আবারও বিশ্বকাপ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ফিফাকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, আপনারা আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিন। তবে, এবার আমরা কানাডা এবং মেক্সিকোকে সাথে রাখব না, একাই আয়োজন করবো।

বিডিংয়ের জন্য ফাঁকা থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপের ওপর নজর রাখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের জন্যও ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *