টাকা-উপঢৌকন-ক্রেস্টসহ ঘোড়ার গাড়িতে ইমামকে রাজকীয় বিদায়

টাকা-উপঢৌকন-ক্রেস্টসহ ঘোড়ার গাড়িতে ইমামকে রাজকীয় বিদায়

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয়েছে রাজধানীর মসজিদুল জুমা কমপ্লেক্সের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমানকে। ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট, অগ্রিম বেতন, পাঁচ লাখ টাকার নগদ চেক এবং ঘোড়ার গাড়িতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন মুসল্লি ও এলাকাবাসী।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) মসজিদটির খতিব মুফতি আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

page-top-ad
তিনি জানান, তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে মসজিদুল জুমা কমপ্লেক্সে ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান মাওলানা হাবিবুর রহমান। এ উপলক্ষে আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মুসল্লি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য এবং আশপাশের এলাকার উলামায়ে কেরাম উপস্থিত থেকে তার দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি জানান।

বিদায়ী সংবর্ধনায় তাকে ফুলের মালা, শুভেচ্ছা উপহার, সম্মাননাপত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সম্মানসূচকভাবে অগ্রিম বেতন এবং পাঁচ লাখ টাকার নগদ চেকও তুলে দেয়া হয়।

ইমামকে-বিদায়-২
মুফতি আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আরো জানান, অনুষ্ঠানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে আয়োজিত বিদায় শোভাযাত্রা। ঘোড়ার গাড়ি ও মোটরসাইকেল বহরের মাধ্যমে সম্মানের সাথে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

ফেসবুক পোস্টে আরো উল্লেখ করা হয়, ইমামতির দীর্ঘ জীবনে মাওলানা হাবিবুর রহমান শুধু মেহরাবেই দায়িত্ব পালন করেননি; মানুষের সুখ-দুঃখ, জন্ম-মৃত্যুসহ জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে তিনি আড়াই শতাধিক মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফনের কাজে সরাসরি অংশ নেন।

বিদায়ের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় ইমামকে শেষবারের মতো দেখতে মসজিদের বাইরেও অনেক নারী উপস্থিত হন। তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মুফতি আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ তার পোস্টে বলেন, একজন ইমামের প্রকৃত সম্মান দায়িত্ব শেষে মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সর্বত্র ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের দীর্ঘদিনের খেদমতের যথাযথ মূল্যায়ন এবং দায়িত্ব শেষে সম্মানজনক বিদায়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

সবশেষ তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলা মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবের দীর্ঘদিনের ইমামতি ও দ্বীনি খেদমত কবুল করুন, তাকে সুস্থতা, নেক হায়াত ও উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।’

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *