সীমিত আসনসংখ্যার কারণে ভারতের নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি পরীক্ষা। প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। কয়েক দিন আগে এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মসহ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী।
নিট-এর প্রশ্নফাঁসের কারণে সৃষ্ট হতাশায় দেশটিতে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আত্মহনন করেছেন। এবার নিট-এ প্রত্যাশিত ফল করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন এক শিক্ষার্থী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আত্মহত্যার আগে লেখা চিঠিতে পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘তোমরা (বাবা-মা) আমার জন্য সবকিছু উৎসর্গ করেছ, কিন্তু আমি ব্যর্থ।’ ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগর জেলার। নিহত পরীক্ষার্থীর নাম অঙ্কিতা সাঙ্গলে। তিনি জেলার জলালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিট পরীক্ষায় ৭২০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ১৬৬ নম্বর পাওয়ার পর থেকেই অঙ্কিতা মানসিক চাপে ভুগছিলেন। গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অঙ্কিতার লেখা একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়। মারাঠি ভাষায় লেখা ওই চিঠিতে অঙ্কিতা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে নিজের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘তোমরা আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছ, কিন্তু আমি তোমাদের একটি ইচ্ছাও পূরণ করতে পারলাম না।’
নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় পরিবারের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন নিটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন তোমরা আমার জন্য সবকিছু উৎসর্গ করেছ। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। তোমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি।’ এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

