থানায় গিয়ে সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেন বৃদ্ধ বাবা, চাইলেন বিচার

থানায় গিয়ে সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেন বৃদ্ধ বাবা, চাইলেন বিচার

সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সন্তানদের অবহেলা, ভরণ-পোষণ না দেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। সন্তানদের অবহেলায় বর্তমানে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার গিমাডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার তিন ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা সবাই আয়-রোজগার করলেও কেউ তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করছেন না। বড় ছেলে অলী বিশ্বাসের প্ররোচনায় অন্য ছেলেরাও তার দেখাশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

বৃদ্ধ আব্দুস সালামের ভাষ্য, বয়সের ভারে তিনি কর্মক্ষম নন। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে পথে পথে ভিক্ষা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। খাবার বা পরনের কাপড় চাইলে ছেলেরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতন করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার ব্যবহৃত কাঁথা-কম্বলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অসহায় এই বৃদ্ধ অভিযোগে আরও বললেন, বার্ধক্যের কারণে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই আইন অনুযায়ী সন্তানদের কাছ থেকে ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বড় ছেলে অলী বিশ্বাস অভিযোগের কিছু অংশের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজো ভাই তাদের বাবা-মায়ের কোনও খোঁজখবর নেন না। কেন নেন না, সে বিষয়ে বাবার কাছেই জানতে বলেন তিনি।

অলী বিশ্বাসের ভাষ্য, তাদের বাবা মেজো ছেলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেন না। এ কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সারাজীবন সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে কঠোর পরিশ্রম করা এই বৃদ্ধ এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং প্রবীণ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও মানবিকতার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী বললেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *