নামাজে বেদাত, দোয়াতে বেদাত; সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের অর্থ কি?

নামাজে বেদাত, দোয়াতে বেদাত; সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের অর্থ কি?

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাহেব একজন ভদ্র সুশীল বিচক্ষণ আর্মি অফিসার, এতে কোন সন্দেহ নেই। বিশেষ করে ৫ই আগস্টের আগে ও পরে একজন সেনাপ্রধান হিসেবে যে রোল প্লে করেছেন, নিঃসন্দেহে তাতে তিনি যথেষ্ট বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। সাথে সাথে তার দেশপ্রেমও ফুটে উঠেছে। যদিওবা তার কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক সমালোচনা ও আলোচনা আছে। পবিত্র হজ্ব পালন করে আসার পর তিনি দাঁড়ি রেখেছেন। এতেও এদেশের দ্বীনদার ঈমানদারদের নিকট যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছেন। আমি নিজেও এ ব্যাপারে একটি বক্তব্যে কিছু বলেছিলাম।

আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনার ঝড় বইছে। বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি ইসলামিক শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষা পাঠদান করার মাধ্যমে যোগ্য ইসলামিক স্কলার গড়ে তোলার কথা বলেছেন; যারা দ্বীন ইসলামের খিদমাত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র বিনির্মাণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখবে।

তার এই বক্তব্যটি অত্যন্ত সুন্দর এবং নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু বক্তব্যের আরেক অংশে তিনি যে কথা বলেছেন, দেশে বিদাত ছেয়ে গিয়েছে, নামাজে বেদাত, দোয়ায় বেদাত; এ কথাটি বলে তিনি অনধিকার চর্চা করেছেন বলে আমি মনে করি। কারণ নামাজে বেদাত; নামাজে কোথায় বেদাত? দোয়াতে কোথায় বেদাত? এটা বলার মতো যতটুক দ্বীনি শিক্ষা কিংবা যে পর্যায়ের ইসলামিক স্কলার হওয়া দরকার, তিনি তো তার ধারে কাছেও নন। তাহলে এরকম বক্তব্য দিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করার কি অর্থ হতে পারে? বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক মুসলমান আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী এবং তারা হানাফী মাযহাবের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন। তাদের নামাজে, দোয়াতে কোনও বেদাত নেই। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশে আসল বেদাতি হচ্ছে আহলে হাদিস দাবিদার, সালাফি দাবিদার কথিত লা-মাযহাবী সম্প্রদায়। তাদের শুধু আমলে নয়, আকিদায় পর্যন্ত রয়েছে যথেষ্ট বিদাত; যার কিছু কিছু শির্ক ও কুফরের মাত্রাও অতিক্রম করেছে —তারাই প্রকৃত বেদাতি।

.

মূলত যারা মাযহাব মানে, বিশেষ করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অনুসারী হানাফি মাযহাবকে যারা অনুসরণ করে অর্থাৎ— হানাফি মাযহাবের ব্যাখ্যাকে যারা গ্রহণ করে তাদেরকে এই লা-মাযহাবি ফেরকার লোকেরাই বেদাতি বলে থাকে এবং নামাজের পর হাত তুলে দোয়াকে বেদাত বলে থাকে। হতে পারে বেদাতের সঠিক সংজ্ঞা না জানার কারণে এবং ঢালাওভাবে নামাজ ও দোয়াতে বেদাত; বলার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় তিনি লা মাযহাবীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।

.

দেশে যোগ্য ইসলামিক স্কলার ও বিজ্ঞ আলেমের অভাব নেই। আমাদের অনুরোধ থাকবে, তাদের থেকে তিনি দ্বীনি বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা জেনে তারপর বক্তব্য দিবেন, সেটা তার ইহকালের কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তিকে নিশ্চিত করবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *