পুলিশ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য, জড়িত প্রিয়জন

পুলিশ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য, জড়িত প্রিয়জন

ঢাকার দয়াগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানায়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। আর এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন তারই স্ত্রী সালমা বেগম।

২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হুমায়ুন কবির ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিবহন বিভাগে জলকামান চালাতেন। হুমায়ুন কবীর ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছিল ২০১০ সালে। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

তদন্ত শেষে ১১ জনকে আসামি করে এ বছরের মার্চে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্ত্রী সালমা বেগমের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানাজানি হওয়া এবং হুমায়ুনের কাছ থেকে একজন আত্মীয়ের ধার নেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়া—এ দুই উদ্দেশ্যে খুন হন এই পুলিশ সদস্য। মাস দুয়েক ধরে চলে পরিকল্পনা। একাধিকবার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে হুমায়ুনকে অচেতন করা হয়। গভীর রাতে হাত-পা বেঁধে রশি দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে খুনের পর মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছেন। এখন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

হুমায়ুনের স্ত্রী সালমা বেগম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- রাজীব হোসেন, মরিয়ম বেগম (মলি), পলি বেগম, কায়েস হাওলাদার, ফজলে রাব্বি শুভ, রাফি খান, আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির।

আসামিদের মধ্যে আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির শুরু থেকেই পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

সালমা, পলি ও রাফি কারাগারে আছেন। রাজীব, মলি, কায়েস ও শুভ জামিনে আছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আর আর্থিক লেনদেন থেকে হুমায়ুনকে খুন করা হয়। ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নিকটাত্মীয় হওয়ায় তাদের বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন রাজীব হোসেন। প্রায় বছরখানেক আগে রাজীবের সঙ্গে সালমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত বছরের ২৫ এপ্রিল দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে সালমা ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

ওই সালিশের তিন দিন পর ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল সকালে দয়াগঞ্জে নিজের ভাড়া বাসার ফটকের সামনে থেকে হুমায়ুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন হুমায়ুনের ছোট ভাই খোকন হাওলাদার যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

হুমায়ুনের পেনশন থেকে টাকা দেওয়ার চুক্তি

হত্যাকাণ্ডের পর শুভ ও রাফিকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী, বাকি টাকা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশনের টাকা থেকে পরিশোধ করার কথা ছিল।

তবে আসামিদের পরিকল্পনা কাজে আসেনি। পুলিশের সন্দেহ হলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হুমায়ুনকে খুন করার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন বলেন, কয়েক দফা পরিকল্পনা বদলে হুমায়ুনকে খুন করা হয়েছিল। খুনের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।

মামলার বাদী খোকন হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নম্বরটি খোলা পাওয়া যায়নি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *