প্রতিহিংসায় ভাশুরের স্ত্রীকে হত্যার পর সাজানো হলো ডাকাতির নাটক

প্রতিহিংসায় ভাশুরের স্ত্রীকে হত্যার পর সাজানো হলো ডাকাতির নাটক

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় রিগান আক্তার মীম (২৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। শুরুর দিকে ডাকাতির ঘটনার মীমকে হত্যা করা হয়েছে এমনটা বলা হলেও পুলিশ বলছে, ডাকাতি নয়। প্রতিহিংসাবশত মীমকে হত্যার করা হয়েছে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ডাকাতির নাটক সাজায় মীমের আপন জা সুমাইয়া আক্তার মিনা।

এই ঘটনায় মিনাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মীনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আটক কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের প্রতিহিংসার জেরেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা যায়, গত বুধবার রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাতলা বেপারী বাড়িতে সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল হকের বসতঘর থেকে গৃহবধূ মীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরু দিকে বলা হচ্ছিল ‘মুখোশ পরা ব্যক্তি’ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। এসময় অস্ত্রের মুখে ডাকাতির পাশাপাশি মীমকে হত্যা করা হয়।

পরে ঘটনা তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের অসামঞ্জস্যতাসহ বিভিন্ন আলামতের সূত্র ধরে মীমের আপন জা সুমাইয়াকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।

থানা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিগান আক্তার মীম ২০২০ সালে শাহরাস্তি উপজেলার সাইফুল ইসলাম রনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে সাইকা (৩) ও সিরাত (৩ মাস) নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

ঘটনার দিন সকালে রিগানের জা নাজমিন বেগম (৫৫) এবং ছোট দেবর রিমন (২৫) চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। রাতে বাড়িতে সুযোগ পেয়ে সুমাইয়া ওড়না পেঁচিয়ে রিগানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ডাকাতির রূপ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন আলামত তৈরি করার চেষ্টা করে।
রাতের একপর্যায়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মিজান (৬৫) চিৎকারের শব্দ শুনে নিহতের বাবা মো. কবির হোসেনকে খবর দেন। তিনি ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে ১৬ জুলাই শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন মোড় নেয়। মামলার নম্বর-২৫ এবং পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সুমাইয়া পারিবারিক প্রতিহিংসার কারণেই বড় জা রিগান আক্তার মীমকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার মাত্র একদিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে দুই শিশু কন্যাকে রেখে রিগান আক্তার মীমের মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *