যে গ্রামে মারা যাওয়াও মানা

যে গ্রামে মারা যাওয়াও মানা

জন্ম-মৃত্যু মানুষের জীবনের চিরন্তন সত্য। পৃথিবীর কোথাও জন্ম নিয়েছেন অথচ মৃত্যুকে এড়িয়ে গেছেন— এমন উদাহরণ নেই। তবে বিশ্বের একটি গ্রামে রয়েছে এমন এক অদ্ভুত আইন, যেখানে গ্রামের সীমানার ভেতরে মারা যাওয়া কার্যত নিষিদ্ধ।

দক্ষিণ ফ্রান্সের ছোট্ট ও মনোরম গ্রাম সারপোরেনেক্স। প্রায় ২৮০টি পরিবারের বসবাস এই গ্রামে। শান্ত-নিরিবিলি এ জনপদ বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী নিয়মের কারণে। এখানে আইন অনুযায়ী গ্রামের ভেতরে কারও মৃত্যু হওয়া নিষিদ্ধ।

স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বাসিন্দা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা মৃত্যুর আশঙ্কা দেখা দিলে তাকে দ্রুত গ্রামের প্রশাসনিক সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ, গ্রামের ভেতরে কারও মৃত্যু হলে সেটিকে নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে শাস্তির মুখোমুখিও হতে হতে পারে। তাই বাসিন্দারাও নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলেন।

এই ব্যতিক্রমী আইনের পেছনে রয়েছে বাস্তব একটি সমস্যা। ২০০৮ সালে গ্রামের একমাত্র কবরস্থান বা সমাধিক্ষেত্রে আর কোনো মরদেহ দাফন বা সমাহিত করার জায়গা অবশিষ্ট ছিল না। নতুন জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আইনি জটিলতায় আটকে যায়।

এ পরিস্থিতিতে তৎকালীন মেয়র জেরাল্ড লালন এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৮ সালেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সারপোরেনেক্স গ্রামে মৃত্যু নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। উদ্দেশ্য ছিল কবরস্থানের জায়গাসংকটের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা এবং সমস্যার প্রতি গুরুত্ব আকর্ষণ করা।

বাস্তবে মৃত্যুকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবুও প্রশাসনের এই প্রতীকী আইন এবং স্থানীয়দের সচেতন অনুসরণের কারণে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে কাগজ-কলমে সারপোরেনেক্স বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ‘মৃত্যুহীন’ গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Copied from: https://rtvonline.com/

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *