ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এক আইন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এবার নিজের বাবার মৃত্যুতেও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নারীর ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই জয়পুরে দ্রুতগতির একটি এসইউভির ধাক্কায় আদালতের কর্মচারী নীরাজ শর্মা নিহত হন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে, শেষ বর্ষের এলএলবি শিক্ষার্থী আয়ুশি শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আয়ুশি তার চাচাতো ভাই বলরামের সহযোগিতায় সাত লাখ রুপির বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি ভাড়া করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল মাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, মায়ের সরকারি চাকরি নিজের নামে নেওয়া এবং পারিবারিক সম্পত্তির দখল পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২
এদিকে নীরাজ শর্মার ভাই রাকেশ শর্মা অভিযোগ করেছেন, গত বছর দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যাওয়া আয়ুশির বাবা বিজয় শর্মার মৃত্যুও সন্দেহজনক। তার দাবি, ব্রেন স্ট্রোকের পর আয়ুশি ও বলরাম পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে বিজয় শর্মাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং প্রায় তিন মাস চিকিৎসার তথ্য গোপন রাখেন।
রাকেশ শর্মার অভিযোগ, পরে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর চিকিৎসকেরা জানান, বিজয় শর্মার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, আয়ুশি ইচ্ছাকৃতভাবে বাবার খাবার সরবরাহের নল খুলে দিয়েছিলেন, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আয়ুশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আয়ুশি, তার চাচাতো ভাই বলরাম এবং বলরামের বাবা মোহন শর্মা এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। অভিযোগ রয়েছে, তারা পারিবারিক সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আয়ুশি এর আগে মায়ের ওপর শারীরিক হামলা করেছিলেন এবং কিছুদিন চাচা মোহন শর্মা ও বলরামের সাথে বসবাস করেছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আয়ুশি ও বলরামের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল।
এ ঘটনায় পাঁচজন কথিত ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্তদের একজন বলরাম এখনও পলাতক। তাকে গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

