ইরানের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির লক্ষ্য হলো, ইরান যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। ১৬ জুলাই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতি থেকে জানা যায়, ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘ফরেন মিলিটারি সেল’ প্রক্রিয়ার আওতায় সৌদি আরবের কাছে উন্নত সমরাস্ত্র ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবিত বিক্রয় প্রক্রিয়ায় মূল আকর্ষণ হলো প্রায় ২০,০০০টি এপিকেডব্লিউএস লেজার-গাইডেড প্রিসিশন রকেট কিট এবং এর সাথে সম্পৃক্ত ওয়ারহেড।
এই উন্নত প্রযুক্তির লেজার-গাইডেড রকেটগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে অত্যন্ত কার্যকরী। এর সাথে রয়েছে এলএইউ-১৩১ এ/এ লঞ্চার, এমকে৬৬ রকেট মোটর, প্রক্সিমিটি ফিউজসহ আনুষঙ্গিক সামরিক সরঞ্জাম।
এছাড়াও লঞ্চ ও এমপ্লয়মেন্ট সরঞ্জাম, প্রকাশনা ও কারিগরি নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে এই চুক্তির আওতায়। পাশাপাশি মার্কিন সরকার এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল ও লজিস্টিক সাপোর্ট সার্ভিসসহ লজিস্টিকস ও প্রোগ্রাম সাপোর্টের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরানের ছোঁড়া ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রতিহত করাই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি দক্ষিণ সৌদি শহর আভার একটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরব তাদের সাথে নতুন করে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
ইয়েমেনের হুতি নেতা আব্দুল-মালিক আল-হুতি বলেছেন, রিয়াদ ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। আর তেমনটা হলে সৌদি আরবের সমস্ত তেলক্ষেত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো তাদের গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে তাদের প্রধান অ-ন্যাটো সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকলেও, তারা সৌদি আরবকে অস্ত্র দিয়ে ফ্রন্টলাইনে শক্তিশালী রাখছে। যদিও বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন এই বিপুল পরিমাণ প্রিসিশন রকেট সরবরাহের মাধ্যমে ওয়াশিংটন রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নাম করে তাদেরকে পুরোপুরি মার্কিন ও পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল করে রাখছে।

