নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন ঢাকায়, দেড় মাসেই নিভল নবদম্পতিসহ ৩ প্রাণ

নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন ঢাকায়, দেড় মাসেই নিভল নবদম্পতিসহ ৩ প্রাণ

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে কুমিল্লার দেবিদ্বারের এক নবদম্পতি ও তাদের সঙ্গে থাকা আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনদিনের ব্যবধানে মারা যান ফাহিমা আক্তার, তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং ভাগনি হাফসা।

গত ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে ভাড়া বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।

পরিবারের বরাতে জানা যায়, নিহত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে স্বামী শাহিনকে নিয়ে উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় আসে ফাহিমার বড় বোনের আট বছরের মেয়ে হাফসা। বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান শাহিন। শুক্রবার মারা যায় শিশু হাফসা। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ফাহিমার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার হাফসাকে দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। রোববার সকালে গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা শেষে একই কবরস্থানে স্বামীর পাশে তাকে দাফন করা হয়।

ফাহিমার বাবা গোলাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বাসায় ওঠার পর থেকেই গ্যাস লিকেজের বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *