‘এত মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের জন্য তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্নটিও তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না’। দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক বৈঠকের পরই ফেসবুকে বার্তা তসলিমা নাসরিনের।
তসলিমা লিখেছেন, ‘আজ দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভাষণ শুনলাম। দুই বছর দেশ থেকে দূরে থেকেও তাঁর কণ্ঠে ভাঙন ছিল না; ছিল দেশে ফেরার দৃঢ় সংকল্প। বত্রিশ বছর ধরে নির্বাসিত একজন মানুষ হিসেবে নিজের দেশে ফেরার এই আকুলতা আমি বুঝি। তাঁর দৃঢ়তা আমাকে স্পর্শ করেছে’।
বাংলাদেশে লেখিকার মতে, ‘২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার করা হয়েছিল, তিনি তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেই ঘটনার পূর্ণ সত্য অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া দরকার। কিন্তু এত মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের জন্য তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্নটিও তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। শুধু ষড়যন্ত্রের কথা বললে ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়; একজন নেতার সবচেয়ে বড় সাহস’।
তসলিমার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন—হত্যা, ফাঁসি বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার জন্য নয়; স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের বিচারের নিশ্চয়তা নিয়ে। তাঁর শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের যেমন বিচার হতে হবে, তেমনি তাঁর পতনের পর সংঘটিত হত্যা, লুটপাট, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারীর ওপর নিপীড়ন, সাংবাদিক ও মুক্তচিন্তকের কণ্ঠরোধ এবং ইসলামি মৌলবাদী সহিংসতারও বিচার হতে হবে। ন্যায়বিচার বেছে বেছে করা যায় না’।

