জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিলো ছেলে

জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিলো ছেলে

বরগুনার আমতলীতে জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।

শনিবার আমতলী লোচা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

শ্রবণপ্রতিবন্ধী ৮০ বছরের বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে হেলাল হাওলাদার ও পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ফিরতে আকুতি জানালেও ছেলে-বউয়ের মন গলেনি।

অভিযুক্ত হেলাল হাওলাদার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগমের স্বামী আবুল হাসেম হাওলাদার ২০০৫ সালে মারা যান। এরপর কষ্ট করে পাঁচ ছেলেকে বড় করেন তিনি। প্রায় তিন বছর আগে নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি পাঁচ ছেলের নামে লিখে দেন। তবে বাড়ির সামনে থাকা কিছু জমি নিজের নামে রেখে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জমি নিজের নামে লিখে দিতে হেলাল হাওলাদার মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় শনিবার দুপুরে আনোয়ারা বেগম ছেলে হেলালের বাড়িতে গেলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে কান্নাকাটি করেও ঘরে ঢুকতে পারেননি তিনি। পরে খবর পেয়ে ভাতিজা আবু সালেহ মুছা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

ভাতিজা আবু সালেহ মুছা বলেন, “আমার ফুফু পাঁচ ছেলেকেই জমি লিখে দিয়েছেন। শুধু সামান্য কিছু জমি নিজের নামে রেখেছিলেন। সেটিও লিখে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। রাজি না হওয়ায় তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”

বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “পোলা আর বউ মোরে ধাক্কা দিয়া ঘর থেইকা বাইর কইরা দিছে। মুই বৃষ্টিতে ভিজা কান্দছি, তবুও মোরে ঘরে নেয় নাই। মুই এই ঘটনার বিচার চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল হাওলাদার বলেন, “পথের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এ কারণে আমার অন্য চার ভাই ও মামারা মিলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. বায়েজিদ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। মায়ের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *