টিকটকারসহ দুই যুবকের চুল কেটে দিল জনতা

টিকটকারসহ দুই যুবকের চুল কেটে দিল জনতা

তরুণীকে নিয়ে টিকটিকে অশালীন ভিডিও প্রকাশ এবং রাতে দেখা করতে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের এক টিকটকারসহ দুই যুবকের চুল কেটে দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কিছু লোক।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযো মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁচি দিয়ে তাদের চুল কাটা হচ্ছে।

চুল কাটার শিকার ওই দুই যুবক হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সালদিঘা গ্রামের (টিকটকার হিসেবে পরিচিত) লিটন মিয়া ও একই গ্রামের আরেক যুবক লেবু মিয়া।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নোমান হোসেন বলেছেন, গ্রামের এক তরুণীকে নিয়ে টিকটকে অশালীন ভিডিও প্রকাশ ও গত রাতে দেখা করতে আসায় গ্রামের কয়েকজন দুইজনকে আটক করে চুল কেটে দিয়েছে। তবে এভাবে চুল কাটা ও ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করা উচিত হয়নি।

এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে লিটন মিয়া ও লেবু মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রবাসীর জমানো টাকা নিয়ে উধাও স্ত্রী, হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ৫ বছরের শিশু
তবে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে টিকটকার লিটন মিয়া বলেছেন, লালাপুর গ্রামের কয়েক যুবককে টিকটকে ভাইরাল না করায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাদের সঙ্গে এমন কাজ করেছেন। কোনো মেয়ের সঙ্গে তার খারাপ সম্পর্ক নেই। যদি কোনো মেয়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটত তাহলে মেয়েকে কেন সামনে আনা হল না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালদিঘা গ্রামের টিকটকার লিটন মিয়া বিভিন্ন সমালোচিত ভিডিও টিকটকে প্রচার করেন। গত কয়েক দিন আগে নবীগঞ্জের লালাপুর গ্রামের এক তরুণীর মুখের মাস্ক জোর করে খুলে ভিডিও করে প্রচার করেন তিনি। এরপর ভিডিওটি তরুণীর আত্মীয়-স্বজনদের নজরে পরলে তাদের অনুরোধে ভিডিওটি মুছে ফেলেন। পরে সোমবার বিকেল আবারও ওই তরুণীকে নিয়ে টিকটকের জন্য ভিডিও তৈরি করেন লিটন মিয়া। এরপর রাতে ওই তরুণীর বাড়িতে দেখা করতে যান তিনি ও লেবু মিয়া। এ সময় গ্রামের কয়েক যুবক লিটন মিয়া ও লেবু মিয়াকে আটক করে। পরে গ্রামের আব্দুল হারিছের বাড়িতে নিয়ে তাদের চুল কেটে দেওয়া হয়। চুল কাটার সময় লেবু মিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘চাচা আমি এরকম কিছুত নাই, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।’

চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি ফেসবুক চালাই না, এমন কোনো অভিযোগ কেউ করেনি বা জানায়নি। তবে শুনেছি ফেসবুকে নাকি এমন একটা ভিডিও মানুষ দেখছে।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ডেকে নিয়ে জোর করে চুল কাটা বা অপদস্থ করার কোনো ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। এমন ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। এছাড়া ঘটনাস্থল অন্য জেলায়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমাদের কেউ অবগত করেনি, কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘটনাটির খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *