বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া রেফারির রহস্যজনক মৃত্যু

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া রেফারির রহস্যজনক মৃত্যু

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ফিফার রেফারি তালিকা থেকে বাদ পড়া নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ অফিশিয়াল রব ডিপেরিঙ্ক মারা গেছেন। স্থানীয় সোমবার (১৩ জুলাই) সকালের দিকে তার বাসভবনের সামনের সড়ক থেকে মাত্র ৩৮ বছর বয়সী এই রেফারির মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির স্থানীয় পুলিশ। গত মে মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারানোর কয়েক সপ্তাহের মাথায় এলো এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর।

ডাচ সংবাদমাধ্যম দে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসের বোরকোলু শহরের কোর্টে মোলেনস্ট্রাট এলাকায় তার নিজের বাসভবনের সামনের সড়ক থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। গোপনীয়তার কারণে পুলিশ এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য জানাচ্ছে না।

ডিপেরিঙ্কের অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘ফিফা রেফারি রব ডিপেরিঙ্কের প্রয়াণে আমরা স্তব্ধ এবং গভীরভাবে শোকাহত। রবের চলে যাওয়ার মাধ্যমে রেফারি অ্যাসোসিয়েশন একজন অত্যন্ত মূল্যবান এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রেফারিকে হারাল, তবে সর্বোপরি আমরা হারালাম একজন নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রার্থনা তার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে রয়েছে।’

চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের অন্যতম প্রধান ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে ড্যানি মাকিলির সহযোগী হয়ে ম্যাচ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ডিপেরিঙ্ক। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে লন্ডনের একটি হোটেলে এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযোগে ফিফা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বকাপ প্যানেল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।

পরবর্তীতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় মে মাসেই ব্রিটিশ পুলিশ এই মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দেয় এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়। ব্রিটিশ পুলিশ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও ফিফা তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ডিপেরিঙ্ক অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ থেকে বাদ দেয়া তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।

মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর ডিপেরিঙ্ক বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের ছিল। আমি পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ফিফা, উয়েফাকে শুরুতেই সবকিছু খোলাখুলি জানিয়েছিলাম। তদন্তের পর দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এত কিছুর পরও ফিফা আমাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি।’

ফিফা কঠোর অবস্থান নিলেও ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শুরু থেকেই এই রেফারির পাশে দাঁড়িয়েছিল। ব্রিটিশ পুলিশ মামলা বন্ধ করার পর তারা ডিপেরিঙ্ককে নির্দোষ মনে করে এবং নেদারল্যান্ডসের ঘরোয়া লিগ এরেডিভিসিতে ম্যাচ পরিচালনার জন্য তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

২০১৭ সালে হল্যান্ডের শীর্ষ স্তরের ফুটবলে রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু করা রব ডিপেরিঙ্ক ঘরোয়া লিগে মোট ৮৪টি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার বেশ সুনাম ছিল, বিশেষ করে ২০২৪ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে তিনি বেশ কয়েকটি বড় ম্যাচ সফলভাবে পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের ৩ মে ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *